
বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের আপত্তিকর পোস্ট ও কমেন্ট মুছে ফেলার জন্য একটি অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
আজ (২৭ আগস্ট) বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সিডনির লাকেম্বায় ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া চ্যাপ্টার (একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, অস্ট্রেলিয়া শাখা) ‘বঙ্গবন্ধু ও ধর্মনিরপেক্ষতা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৌলবাদ প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিসহ দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শুধু ফেসবুক ব্যবহার করছে না, ওরা ইনস্ট্রাগ্রাম, ইউটিউব, লিংকেডিনসহ আরো অনেক মাধ্যম ব্যবহার করছে, ফলে আমাদের শুধু ফেসবুকের দিকে খেয়াল রাখলে চলবে না। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।‘
মন্ত্রী বলেন,‘মৌলবাদী সন্ত্রাস নির্মূলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রণী। আমরা সন্ত্রাস নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের আপত্তিকর পোস্ট ও কমেন্ট মুছে ফেলার জন্য একটি অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা করছি।’
এসময় তিনি জানান, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট রিপোর্ট করে তা মুছে ফেলার ক্ষেত্রে আগে সফলতার হার ছিল ৫ ভাগ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ ভাগে।
তিনি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে অশুভ শক্তির বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান।
বাংলাদেশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলাদেশে যেভাবে শেকড় গেঁড়েছে তা উপড়ে ফেলা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।’
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দীর্ঘদিন যাবত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী তাদেরকে সাধুবাদ জানান।
শহীদজননী জাহানারা ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথেই আমরা চলছি। স্বাধীনতা বিরোধী মুক্ত অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তার কর্মজীবন আমাদের কাছে পাথেয়। ইসলামিক রিপালিক পাকিস্তানকে পরাস্ত করে জাতির পিতা।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডাঃ একরাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদার, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেলাল, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি ইফতেখার ইফতু, ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সাবেক সভাপতি মুহিতুল ইসলাম সুজন এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নেতা শফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনূর রশীদ, নির্মূল কমিটি অস্ট্রেলিয়া শাখার সহসভাপতি হাসান শিমুল ফারুক রবিন, সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ সিদ্দিকী, সংস্কৃতি সম্পাদক কাজী আশফাক রাহমান, সংগঠনের অস্ট্রেলিয়া শাখার সদস্য তানভীর কেনেডী ও ডেভিড বালা।
এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রাণ উপকমিটির সদস্য ডাঃ মির্জা খালেদ আল আব্বাস, মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শুভজিৎ ভৌমিক, শহীদ সন্তান সাদের উদ্দিন, অস্ট্রেলিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাশফী আলম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের জুমসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার রহমান।
নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বয়ান কীভাবে আরো সঙ্গবদ্ধভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সেটি ভাবতে হবে। একটি কমন ডাটাবেজ আমাদের থাকতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শুধু ফেসবুক ব্যবহার করছে না, ওরা ইনস্টগ্রাম, লিংকেডিন সহ আরো অনেক মাধ্যম ব্যবহার করছে, ফলে আমাদের শুধু ফেসবুকের দিকে খেয়াল রাখলে হবে না। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ১৯৭১ সালের এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল দেশ স্বাধীনের জন্য, ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণাকারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’